শুঁড়ে পেঁচিয়ে পিষে দিল দাঁতাল
দি নিউজ লায়ন ; হাতির হামলায় গুরুতর জখম হলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা এক ব্যক্তি। তার নাম রাখাল গোপ (৩৭)। শুক্রবার ভোররাতে ঝাড়গ্রামের জামবনী ব্লকের লালবাঁধ গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়শোল গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। পেশায় গাড়িচালক রাখালের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের উদাল গ্রামে। শুক্রবার ভোরে টাঙ্গিয়ার কাছে তাঁর গাড়িটি রেখে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন রাখাল। হঠাৎ করেই হাতির পালের সামনে পড়ে যায় রাখাল। কিছু বোঝার আগেই একটি হাতি শুঁড়ে করে তুলে আছাড় মারে তাঁকে।
পরে তাকে মারিয়ে জঙ্গলে ঢুকে যায় হাতিটি।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাতিটি রাখালের ডান পা ভেঙে গুঁড়ো করে দিয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন ঝাড়গ্রামের জামবনি সহ একাধিক ব্লকে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ টি হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে। গ্রামে ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে তারা। এছাড়া একাধিক বাড়ি ভাঙচুর করেছে এই হাতির দল।
এতদিন হাতির পালের সামনে কেউ পড়েনি তাই দুর্ঘটনা ঘটেনি কিন্তু শুক্রবার সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। হাতির সামনে পরে গুরুতর জখম হলো এক ব্যক্তি। অবিলম্বে যদি এই হাতির দল কে অন্যত্র সরানো যায় তাহলে এই ধরনের ঘটনা ফের ঘটবে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা গ্রামবাসীদের। যদিও বনদপ্তর এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু ঝাড়গ্রাম নয় মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়েই হাতির পাল ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ টি হাতি এই চারটি জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে কোন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে এই হাতিগুলোকে যাতে অন্যত্র সরানো যায় সে ব্যাপারেও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বন দফতর সূত্রে খবর। বনকর্মী এবং হুলা পার্টির সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। খবর পেলেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতি তাড়ানোর কাজ করছে। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে বনদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হলেইচি বলেন, 'ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া আমতলিয়া এলাকায় এই হাতির দলটি বেশ কিছুদিন ধরেই রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এদেরকে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়ার। কিন্তু মাঝে মাঝেই এলাকায় ঢুকে যায়। শুক্রবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে আমরা জখম ব্যক্তির চিকিৎসা ও সমস্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবো।'

Post a Comment